বুধবার থেকে বন্ধ হচ্ছে প্রযুক্তি বাজার, ইন্টেরনেট সেবা নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার
কোভিড-১৯ এর প্রভাব পড়েছে দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার ফলে আগামী ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আইডিবি, মাল্টিপ্লান, মোতালেব প্লাজাসহ দেশের সবকটি প্রযুক্তি পণ্য বাজার।
অপরদিকে মাঠ পর্যায়ের ইন্টারনেট সেবাদানকারী কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সঙ্কটকালীন সময়ে ইন্টারনেট প্রবাহ নিশ্চিত রাখতে জাতীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা গৃহীত না হওয়ায় সবচেয়ে বড় সঙ্কটে রয়েছে আইএসপি খাত।
চলতি মাসের শুরু থেকেই মন্দাবস্থা চলছে প্রযুক্তি বাজারে। পণ্য সঙ্কটের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপসহ নিয়মিত প্রযুক্তি পণ্য ক্রেতা কমেছে ৫০ শতাংশের মতো। অথচ এলসি করে পণ্য আমদানি করে বাজারে দিয়েও ক্রেতা নেই। তাই সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন আমদানি কারকরা।
এ নিয়ে স্মার্ট টেকনোলোজি বিডির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএম মহিবুল হাসান বললেন, চায়নায় করোনা ভাইরাসের সময় একবার আমদানীতে সমস্যা হয়েছিলো। এরপর যখন শুরু হলো তখন এলসি খুলে পণ্য আমদানির পর এখন দেশে লকড ডাউন অবস্থা। ফলে ব্যাংকের সুদ গুণতে হবে কিন্তু পণ্য বিক্রি হবে না। সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কিংবা মোবাইলের বাজার মন্দা হলেও নেটওয়ার্ক ও ভিডিও কনফারেন্সিং পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ৩০ শতাংশের মতো।
টেক রিপাবলিক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএম ফয়েজ মোর্শেদ বললেন, হোম অফিস মানেই তো ঘরে বসে ইন্টারনেটে কাজ নয়। এক্ষেত্রে কাজের পরিবেশে নয়েজ ক্যান্সেলেশন গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হবে ভিডিও কনফারেন্সিংয়েরও। এজন্য ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের পাশাপাশি এখন বাজারে এই দুইটি ডিভাইসের চাহিদা বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে এই মুহূর্তে জাবরার মতো নির্ভরযোগ্য ডিভাইসগুলির চাহিদা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
আইডিবি, মাল্টিপ্লান ও মোতালেব প্লাজার মতো প্রযুক্তি বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে বিক্রয় কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ।
আবার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাড়লেও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। শেষ খবর পর্যন্ত ‘হোম অফিস’ এর পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে আইএসপিএবি। এ বিষয়ে আইএসপিএবি মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন, মন্ত্রীমহাদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, ইন্টারনেট সেবাকে জরুরী সেবা হিসেবে নেয়া হয়েছে। যদি নেয়া হয়, তবে আমরা আগামীকাল বিটিআরসি থেকে চিঠি পাবো। ওই চিঠি পাওয়ার পর আমরা কীভাবে এই সেবাটি জরুরী সেবা হিসেবে সকলের কাছে পৌছাবো সে বিষয়ে সবাই বসে পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করবো। কালকে অনলাইনে একটি মিটিং হবে। এরপর এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জানাতে পারবো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই অনেক জায়গা থেকে পেমেন্ট পাচ্ছি না। তাই আমরা চাই সরকার আমাদের এ বিষয়ে কিছু সাপোর্ট দিক। অবশ্য ইতিমধ্যেই মন্ত্রী মহোদয় কিভাবে এই সেবা স্মুথলি চালানো যায় সে বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। আমরা তো আমাদের পক্ষ থেকে নিতে পারবো। কিন্তু প্রতিটি বিষয়ের কস্ট ইস্যু আছে।